Connecting local responses around the world
Website: the-constellation.org
Newsletter English, French Spanish
Facebook https://www.facebook.com/pages/The-Constellation/457271687691239
Twitter @TheConstellati1
Instagram: https://www.instagram.com/constellationclcp/
আমাদের গ্রো ইউর রিডার এর দ্বিতীয় জ্ঞানের মেলার পরে রাশিদা আন্টি আমাকে তাদের বাড়িতে ডেকে নেয়। এবং তাদের বাড়ির আরও কয়েকজনের গুন বা শক্তি সম্পর্কে জানায়।এমনকি তারা একটা নতুন টিম গঠন করতে চায়। তারা বলে হয়তো সামনের কোনো জ্ঞানের মেলায় তারা তাদের পরিবর্তনের গল্প অন্যদের শোনাতে পারবে। তাদের গল্প শুনে অন্যরা অনুপ্রাণিত হবে যেমন করে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছে। এরপর সল্ট করতে করতে তাদের ইউনিক শক্তি সম্পর্কে জানতে পারি। তারা সেলাই, কুশিকাটার কাজে বেশ দক্ষ তবে সেটা নিয়মিত না। তাই সল্টের পরে গ্রুপ সল্টে বসে বিষয়গুলো নিয়ে তারা আলোচনা করে। এবং নিজেরা এই সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করে কিভাবে তাদের এই সেলাই টাকে আয় মূলক কাজের দিকে নিয়ে যাওয়া যায়।
এক বছর হলো আমাদের পাহাড়িয়াপাড়া আগামীর স্কুলে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়া শুরু করেছে। যেহেতু শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়া শুরু করেছে, সেহেতু তাদের নতুন স্কুল ড্রেস, স্কুল ব্যাগ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা বা আলোচনা চলছিল। কি করা যায়? আমরা চিন্তা করছিলাম কেন বাইরে থেকে আমরা ড্রেস আর ব্যাগ বানাবো? আমাদের আপারাই তো প্র্যাক্টিস করা শুরু করেছে। ওনাদের একটু জিজ্ঞেস করে দেখি। আমরা কথা বললাম এই বিষয়ে তাদের সাথে। তখন আন্টিদের মধ্যে পাহাড়িয়াপাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশ কৌতূহল তৈরি হয়। তারা স্কুল সম্পর্কে জানতে চায়। সব শুনে তারা সানন্দেই রাজি হয় এই শিশুদের জন্য ড্রেস এবং ব্যাগ বানাতে।
আমাদের ব্যাসপুর কমিউনিটির দুটি পাড়ার আপা, আন্টিদের হাতের নিপুন ছোঁয়া এবং ভালোবাসায় তৈরি হয়েছে স্কুল ড্রেস ও পাটের তৈরি চালের বস্তা রিসাইকেল করে ব্যাগ। পাহাড়িয়া পাড়া আগামীর স্কুল যেহেতু পরিবেশ বান্ধব সেটা বিবেচনা করেই পরিবেশবান্ধব রাখতে ব্যাগ পাটের বস্তা দিয়ে তৈরি করা হয়। এটা টেকসই এবং সহজলভ্য ও বটে।
ব্যাগ এর সাথে ভালোবাসায় সিক্ত করে ফুটিয়ে তুলেছেন কুশি কাটার হাতের তৈরি ফুল । ব্যাসপুর উত্তর পাড়া থেকে সাবিনা আপা ও রিপা আন্টি তৈরি করেছেন ছোট, বড়, মাঝারি এবং ওভারসাইজের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ড্রেস (ফ্রক)।তারা দুজন মিলে মোট 27 টি ড্রেস সেলাই করেছেন। পরম যত্নে এবং উৎসাহিত হয়ে।
অন্যদিকে কাটাখালি পাড়া থেকে রাশিদা আন্টি ৩৩টি ছোট, বড় মাঝারি এবং ওভার সাইজের শার্ট তৈরি করেছেন। এখানে ছোট্ট একটা গল্প শেয়ার করি, সল্টের মাধ্যমে কমিউনিটির অনেকেই সেলাই কাজে পারদর্শী তা শেয়ার করেন। তবে তাদের দক্ষতা নিজেদের পোশাক তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল খুব কম লোক শেয়ার করেছিল যারা অন্যদের কাজ করে থাকে। তবে শার্ট সেলাই করতে পারে এমন মহিলা কে কমিউনিটিতে খুজে পাওয়া যায়নি। যেহেতু আমাদের পাহাড়িয়া পাড়ার স্কুলে ছেলে শিক্ষার্থী ও রয়েছে তাই আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি শার্ট নিয়ে। পরে রাশিদা আন্টির সাথে এই বিষয়টা নিয়ে একটু আলোচনা করি। তবে রাশিদা আন্টি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন আমি কখনো শার্ট তৈরি করিনি তবে আমি বিশ্বাস করি একবার দেখলে আমি এটি পারব। তারপর একদিন আমি আমার ফোন থেকে শার্ট কাটিং আন্টিকে দেখাই। ঐদিন দেখে কিছুটা আইডিয়া নেওয়ার পরে, পরের দিন আমি যাওয়ার আগেই দেখি সে তার ছেলের একটি শার্ট খুলে আবার নতুন করে সেটাকে জোড়া লাগিয়েছে। এবং আমি যাওয়ার পরে গর্বের সাথে বলেছে আগামী দিন আমি আপনাকে একটা শার্টের স্যাম্পল বানিয়ে দেখাবো এরকম ভাবে বানালে কেমন হয়! কথা মত আন্টি ঠিকই একটা শার্ট বাংলা ভাবে তৈরি করে ফেলেছিল।যেটা আমি সুন্দর করে ছবি তুলে প্রিয়া আপু এবং সাদিয়া আপুকে দেখাই।আপুদেরও শার্ট তৈরি খুব পছন্দ হয় এবং রাশিদা আন্টিকে ফোনে অনেক প্রশংসা করে। পরে আন্টি নিজের প্রচেষ্টায় টরে কাপড় কেটে শার্ট বানাতে সক্ষম হয়।
এমনকি 33টি শার্টই আন্টি নিজে তৈরি করে। প্রতিবেশীদের সাথে রাশিদা আন্টির অনেক সুসম্পর্ক।যখন আন্টি শার্ট তৈরি করে তখন ওনার টিমের অন্যরা বসে বসে আন্টিকে বোতাম এবং ঘাট সেলাই করতে সহযোগিতা করে। রাশিদা আন্টির শার্ট এর সংখ্যা বেশি থাকায় তার সময় লাগে বেশি। অন্যদিকে সাবিনা আপা এবং রিপা আন্টির ড্রেস সেলাইয়ের কাজ শেষ হয়ে যায়।
শাহানারা আপার টিমের সাবিনা আপা, রিপা আন্টি এবং শাহানারা আপা নিজে চাউলের বস্তা থেকে ব্যাগ তৈরি করা শুরু করে। তারা তিনজনে মিলে ৩১+৩০+৯=৭০টা ব্যাগ তৈরি করে ফেলে। এর জন্য প্রথমে ব্যবহৃত চাউলের বস্তা গুলোকে কেটে নেয়। পরে লেখা ছাড়া অংশটুকুতে ফল্স কাপড় লাগিয়ে পরে সেটা ব্যাগের আকৃতি দেয়। এবং পরে ধরার জন্য হাতল লাগায়। এবার ব্যাগে সুন্দর করে কাটাখালি পাড়া থেকে রুকাইয়া, "পাহাড়িয়া পাড়া আগামীর স্কুল "লিখে দেয়। চারপাশে বক্সের মতো তৈরি করে মাঝখানে লেখাটা লেখে। কয়েকটা দিন ২ পাড়ার এই দুই টিমের মধ্যে যেন উৎসব বিরাজ করছিল। কিভাবে ঢেলে সাজানো যায় এবং এর সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা যায় এমনই যেন একটা মনোরম পরিবেশ।কাজ দেখার জন্য জড়ো হয়ে বসা আরও অনেক ছোট বড় মানুষের সমাগম। বেশ আমোদ ছিল এই কটা দিন।
উত্তরপাড়ায় বস্তা থেকে ব্যাগ তৈরির পর দেওয়া হয় কাটাখালি পাড়ার রাশিদা আন্টির টিমের কাছে। সেখান থেকে লেখা শেষে কিছু ব্যাগ রেখে দেয় কাটাখালির রাশিদা আন্টির টিম এবং কিছু ব্যাগ শাহানারা আপার টিমের কাছে পাঠানো হয় সেলাইয়ের জন্য যেখানে সুই সুতা দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয় রঙিনভাবে । চারপাশের আয়তাকার ফ্রেম এবং মাঝের লেখাটাতে হাতের সেলাই দেওয়া হয়। লাল সুতার চেইন সেলাই খুব ফুটে ওঠে পাটের বস্তার ওপর।
কাটাখালির রাশিদা আন্টির টিমের এক সদস্য, জাহানারা আন্টি উলের লাল সবুজ সুতা দিয়ে ফুল এবং পাতা তৈরি করে হাতে। কুশি কাটার ফুল। ৪৭ টি ব্যাগে জাহানারা আন্টি নিজে কুশিকাটার ফুল বসান। তাতে ব্যাগের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। এভাবে কমিউনিটির মানুষের শক্তিকে একটু একটু করে ফুটিয়ে পরম যত্নে পৌঁছে দেওয়া হয় পাহাড়িয়াপাড়া স্কুলের শিক্ষার্থীদের হাতে। এই কাজটা কমিউনিটির মানুষ বেশ যত্নে করে শেষ করে।
তারা মনে করে তাদের এই শক্তি সম্পর্কে কখনোই কাউকে জানানোর সুযোগ হয়নি, এই তো সুযোগ তাদের শক্তিকে সবার সামনে তুলে ধরার। তাই তারা তাদের নিজেদের শক্তিকে অনেক ভালোবেসে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। কমিউনিটির অনেকেই তাদের কাজ করতে দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি, স্বেচ্ছায় বিভিন্ন কাজ নিজেরা এগিয়ে করে দিয়েছেন। যেমন কেয়া আপু সেলাইয়ে পারদর্শী না তবে সে সেলাই করা দেখে নিজেকে ধরে রাখতে না পেরে তার একটা শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছে। রাশিদা আন্টির শার্ট বানানো দেখে কেয়া আপু বলে- "কাকি আপনি শার্ট সেলাই করবেন আর আমি আমার বাসার আয়রন মেশিন দিয়ে সেগুলোকে আয়রন করে দিব"। এবং কেয়া আপু সেটাই করেছেন শার্টগুলো এবং ফ্রকগুলোও নিজে হাতে আয়রন করে পাহাড়িয়াপাড়ার আগামীর স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।
পাহাড়িয়াপাড়ার মানুষেরা অনেক সানন্দে আমাদের ব্যাসপুরের আপাদের বানানো ব্যাগ এবং ড্রেস গ্রহন করেছেন। তারা আপাদের পরিশ্রমকে সম্মান দিয়ে কিছু টাকা দিয়ে ব্যাগ আর স্কুল ড্রেস টা কিনে নিচ্ছেন।
আর এমনিভাবে পরস্পর পরস্পরের সহমর্মিতা এবং সহযোগিতা পূর্ণ মনোভাবের মধ্য দিয়ে পাহাড়িয়াপাড়া আগামীর স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ভালোবাসার এক গল্প তৈরি করেছেন ব্যাসপুর কমিউনিটি। ব্যাসপুরের আপারা এখন চেষ্টা করছেন কিভাবে তারা তাদের কাজকে আরও সামনে নিয়ে যাবে।
Comment
The YouTube Link with detailed information about blog is provided in the comments.You can check it if you want.
© 2026 Created by Rituu B. Nanda.
Powered by
You need to be a member of Community life competence to add comments!
Join Community life competence